Posts

বাবুই পাখি

Image
এক তালগাছের আগায় এক বাসায় এক বাবুই পরিবারের কথোপকথন|| বাচ্চা বাবুইঃ বাবা, মানুষ কি? বাবা বাবুইঃ তেনাদের নাম নিতে নেই বাছা! তেনারা হলেন ভয়ঙ্কর হিংস্র পিশাচ। তেনারা স্বজাতির রক্ত পান করেন। খুনোখুনি, রাহাজানি, প্রতারণা হেন অন্যায় নেই যে তেনারা করেন না। মানবতা নামক এক সুন্দর মুখশের পেছনে তেনারা তেনাদের কুৎসিত চেহারাগুলো ঢেকে রাখেন। বাচ্চা বাবুইঃ তবে তো আমাদের পাখি জীবনই সার্থক। তাইনা বাবা? বাবা বাবুইঃ খাসা বলেছিস বাছা।

নিথর দেহ

Image
হঠাৎ গভীর রাতে মিনুর ঘুমটা ভেঙ্গে যায়! অনেক দূর থেকে শুধু ভেসে আসতে থাকে কিছু নেকড়ের তীব্র হুংকার! প্রচণ্ড ভয়ে সে কিছু একটা খুঁজতে থাকে দিগ্বিদিক! আচমকা চোখ পড়ে খাটের নিচে! কারো ঈষৎ ছায়া যেন ঠিকরে বের হয়ে আসছে কিছু দেখাতে। মিনু আলতো করে, ঘামে ভিজে থাকা কপালটা থেকে যেন এক বিন্দু ঘাম পড়ে সেই ছায়াটা কে আঁতকে না দেয়, সেভাবে একটু উঁকি দেয়। মিনুর পুরো শরীর যেন নিথর হয়ে যায় মুহূর্তেই। এ যে তারই শৈশব এর ভীত অবয়ব থর থর করে কাঁপছে ! সে হাত বাড়িয়ে তাকে টানতে গেলে সে বলে উঠলো- "তুমি তো মিনু নও! মিনু খাটে! " চরম বিস্ময়ে বোধ শুন্য হতে থাকলো মিনু! নেকড়ের চিৎকার গুলো আরো কাছে চলে আসছে! একে অন্যকে যেন ছাপিয়ে গ্রাস করতে চাইছে তাকে। এর মাঝেই সে পাল্টা প্রশ্ন করে বসলো সেই ছোট্ট মিনু কে- " কিন্তু খাটে তো আমি ছিলাম! এখন কে আছে ওখানে? " জবাবে ছোট্ট মিনু কেবল ভয়ের একটা দৃষ্টি দিলো উপরে! বিস্ময়ের পারদটা আরও বাড়িয়ে মিনু ভয়ে ভয়ে তাকালো খাটের ওপরে, মনে হলো নেকড়ে গুলো যেন তাচ্ছিল্যভরে তার দিকে তাকিয়ে তার মৃত্যুর অপেক্ষায় গর্জে যাচ্ছে ! কিন্তু সবার দৃষ্টি সেই খাট...

অসাধারণ এবং শ্রেষ্ঠ কিছু মুহূর্ত

Image
সকাল থেকেই আকাশ থাকবে মেঘলা। নরম ঠান্ডা একটা বাতাস গায়ে মুখে মেখে আমরা যেতে থাকব । রিকশায়। বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ। হঠাৎ বৃষ্টি নামবে। ভিজতে থাকব মহা উৎসাহে। রাস্তার পাশে রিকশা থামিয়ে টংয়ের চা। ধোঁয়াতোলা চায়ের সতেজ ঘ্রাণ। একটা ছোট মেয়ে আসবে ধেয়ে। একগাছি বেলিফুলের মালা হাতে। তুমি গুনে দেখবে, হাতের সবগুলো ফুল কিনে নিবে।  প্রিয় বেলিফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ......... বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ ধোঁয়াতোলা চায়ের সতেজ ঘ্রাণ আর আমার প্রিয় তুমি ... অসাধারণ এবং শ্রেষ্ঠ কিছু মুহূর্ত...........

আপনার ছেলেটাকে আমার চাই

Image
প্রিয় শাশুড়ি আম্মা, পত্রের প্রথমেই আমার সালাম গ্রহণ করবেন।..আশা করি ভালো আছেন! আমিও ভালোই ইক্টু ইক্টু..বেশি বেশি ভালো থাকার জন্য আপনার সহজ সরলখরগোসের বাচ্চার ... মতো কিউত ছেলেটাকে আমার চাই। ভোরবেলায় হাঁটতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হলেও আপনারছেলেকে চাই।.ভরদুপুরে বাসায় ফেরার সময় এক প্যাকেট চিপ্স কিনেদেওয়ার জন্য হলেও আপনার ছেলেকে চাই!.সন্ধ্যায় ঝুম বৃষ্টিতে হাত ধরে ভেজার জন্য হলেওআপনার ছেলেকে চাই!.মাঝরাতে ঘুম ভেঙে হঠাৎ আইসক্রিম কিনে দেওয়ারবায়না করার জন্য হলেও আপনার ছেলেকে চাই।.আমার প্রচন্ড মেজাজ খারাপের সময় ধরে চড় থাপ্পড়দেওয়ার জন্য হলেও আপনার ছেলেকে চাই।.কন্ট্রোল করতে না পারা রাগটা যখন অভিমানে পরিনতহয়ে চোখ দিয়ে বের হয়ে গাল বেয়ে নিচে গড়িয়ে পড়বেতখন আমার কপালে চুমু দিয়ে চোখ মুছে দেওয়ার জন্যহলেও আপনার ছেলেকেই চাই।.অকারন মন খারাপের সময় ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদার সময়জোর করে বুকে টেনে নেওয়ার জন্য হলেও আপনারছেলেকে চাই।. যেদিন শাড়ি পড়ে সাজুগুজু করবো ওইদিন ঘরের সব কাজকরানোর জন্য হলেও আপনার ছেলেকে চাই।.রোজ রাতে চুলে তেল দিয়ে বিনুনি করে দেওয়ার জন্যহলেও আপনার ছেলেকে চাই।.রা...

চিঠি

Image
তোমায় একটা লিখবো চিঠি ভাবছি কতকাল ! ভাবনাগুলো উড়ছে শুধুই   হচ্ছে বেসামাল । চিঠির পাতায় মনের খাতায় পড়ছে শুধু জমা । ভালোবাসার টুকরো কথা হয়ত কিছু ক্ষমা । ভাঙছে নাযে মনের দেয়াল হচ্ছেনা আর লেখা । মনের মাঝে আনাচ কানাচ সমান্তরাল রেখা । রেখা থেকে লেখা হতে হচ্ছে বড়ই দেরি । মনের কলম বন্ধ এখন দেয়ালজুড়ে বেড়ি ।

সময় ও কর্ম-ফল

Image
সময় বড় আজব জিনিস। স্কুলের ধুলায় ঢাকা কাঠের বেঞ্চটা  দেখলে বোঝাই যায় না একটা সময় ছিল যখন ছোট ছোট বাচ্চারা পেঞ্চিল-কাটা কম্পাস দিয়ে এর মধ্যে মনের সুখে  আকাবুকি করেছিল আর বড়রা পরীক্ষার আগে লিখে রেখেছিল কতই না অঙ্কের সুত্র, বাংলার পয়েন্ট আর ইংরেজি শূন্যস্থান এর উত্তর। সময়ের স্রোত প্রবাহে এখন সব কিছু ধুলায় ঢাকা। মনে হয় একটা শুকনা ন্যকড়া দিয়ে মুছে তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে দিলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। আসলেই কি তা হয়? মানুষের কৃত কর্ম ফলও অনেকটা এই বেঞ্চের উপরে বাচ্চাদের আকাবুকি ও বড়দের লেখালেখির মত। সময়ের স্রোতে যতই ধুলা পরুকনা কেন একটা সুক্ষ দাগ থেকেই যায়। কর্ম যদি ভাল হয় তাহলে বেঞ্চে আকা সুন্দর ছবিটার মত ফলটাও সুন্দর মনে হয়। যতই ধুলা পরুকনা কেন পরিষ্কার করলেই সব সুন্দর দেখায়। আর কর্ম যদি খারাপ কুৎসিত হয়ে থাকে তাহলে যতই ধুলায় ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হোকনা কেন একদিন আয়নার মত পরিষ্কার হয়ে যাবে ও ঐ আয়নায় শুধু নিজের কুৎসিত মুখটাই দেখা যাবে। কৃত কর্মের সহযোগী হয়তো ছিল নিজের অনেক কাছের ও পছন্দের বন্ধু কিন্তু আয়নায় দেখা যাবে শুধু নিজেকেই। তাই সময়, ধুলা, আয়না আর বন্ধু বান্ধব এতো এতো জটিল ইক...

স্বপ্নে আমার ফুটবল

সেই ছোট বেলা থেকেই ফুটবল খেলার পাগল আমার এক বন্ধু। অন্ধ ভক্তই বলা চলে। জন্মের পর থেকেই নাকি সে আর্জেন্টাইন সাপোর্টার। জন্মের পর থেকে বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে যারা মেসি - ম্যরাডোনা ছাড়া আর কাউকে চিনে না এমন সাপোর্টার থেকে তাকে আলাদা করা। ফুটবল নিয়ে তার একটাই স্বপ্ন শুধু একবার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হাতে কাপ দেখা। প্রতিবার বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই সে প্রতিরাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন তারা কাপ নিচ্ছে। এটা এখন একটা ফোবিয়ার আকার ধারন করেছে। প্রায়ই তার রুম ম্যাট তাকে ঘুমের মধ্যে হাসতে দেখে ! কাপ , আরজেন্টিনা কি সব ভাঙ্গা ভাঙ্গা কথা বলে। এমনকি মাঝে মাঝে নাকি ঘুমের মধ্যে হাত পা ছোটা - ছুটি ও করে। এমনই ডাই হার্ড আর্জেন্টাইন ফ্যান , আমার বন্ধু , তার ল্যাটেস্ট স্বপ্নর কথা আমাকে বলে। স্বপ্নের সুত্রপাত নাকি গত কো পা আমেরিকার ফাইনালে তাদের শোচনীয় হারের পর। তার স্বপ্নের বর্ণনা ছিল অনেকটা এমন - প্রতি দিন বন্ধু - বান্ধবের সাথে ফুটবল নিয়ে কম - বেশি কথা - বার্তা , তর্ক - বি...