আরে পাগলী এর নামই ভালবাসা
মীরা আর রাতুল দুজন দুজনকে অসম্ভব ভালবাসে। দুজনেরি দুজনের কাছে চাওয়া পাওয়া অনেক
বেশি। এতটাই বেশি যে ইদানিং এই চাওয়া পাওয়ার ব্যাপার গুলো নিয়ে প্রায়ই ঝগড়াই হয়!
আজ মীরার সেমিস্টারের প্রথম ক্লাস। ক্লাস বেশিক্ষন হবেনা কারন প্রথম ক্লাস গুলো
শুধু নাম ডেকেই ছেরে দেয়। তাই মীরা ভাবল আজ রাতুলকে নিয়ে ক্লাসের পর রিক্সা দিয়ে
ঘুরবে। বাসা থেকে রান্না করা খাবার
নিয়ে গেল রাতুলের জন্য।মীরা ক্যাম্পাসে ঠিক সময় মতই গেল কিন্তু রাতুল এল ১ঘন্টা
পর। যাইহোক, মীরা আজ রাতুলের উপর রাগ করবেনা কারন আজ সে রাতুলকে নিয়ে বেড়াতে বের
হবে! ক্লাস শুরু হতে দেরি তাই দুজন ক্যাম্পাসের মাঠেই বসল। মীরা ভাবল রাতুল বলবে
তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে মীরা। কিন্তু না রাতুল মীরাকে তেমন কিছুই বল্লনা! রাতুলের
মুখটা খুব শুকনো লাগছিল। মীরা ভাবল তার মনে হয় খুধা লাগছিল, রাতুলকে খাবারের কথা
জিজজ্ঞেস করতেই রাতুল বল্ল খুধা নেই। রাতুল চুপ করে বসে আছে, মীরা বার বার জিজ্ঞেস
করল তোমার কি মোন খারাপ? রাতুল বলল না শুধু মাথাটা ব্যাথা করছে! মীরার তারপও কেন
যেন মনে হল রাতুলের মোন খারাপ!ক্লাস শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই, এর মাঝেই রাতুলের
মোনটা ভাল করতে হবে কারন এর পর মীরা রাতুলকে নিয়ে রিক্সা দিয়ে ঘুরবে!মীরা তাই
এক্টা বুদ্ধি বের করে রাতুলকে রাগিয়ে দিল ইচ্ছে করে, যেন রাতুল রেগে চুপ করে বসে থাকে!
এর মধ্যে মীরা রাতুলের জন্য কিছু রজণী আর গোলাপ কিনে আনল! মীরার কাছে ছিল অল্প
কিছু টাকা তারপরও ওটুকু পুড়োটা দিয়েই ফুল কিনে আনল! আসার সময় মীরার চোখে ভাসছিল
রাতুল প্রথমে রাগ করে বসে থাকবে তারপরি মীরার হাতের ফুল দেখলে গালভর্তি হাসি দিয়ে
মীরার হাত ধরে বলবে ভালবাসি! এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে রিক্সার পিনের সাথে লেগে
মীরার পা কেটে গেল বুঝতেই পারল না! রিক্সা থেকে নেমেই রাতুলের কাছে গিয়ে দারাতেই
মীরার পা কাটা দেখে রাতুল রক্ত মুছতে লাগল! মীরা রাতুল কিছু বলার আগেই বল্ল এই নাও
তোমার জন্য এনেছি আর আমার জীবনের প্রথম প্রিয় ফুল রজনী আমি আজ কিনলাম! আর আমি
তোমাকে সারপ্রাইজ দিব বলেই তোমাকে ইচ্ছে করে রাগিয়ে দিয়েছিলাম! রাতুল মীরার কথা
শুনে খুব বিরক্ত আর রাগ হলো! মীরাকে খুব করে বকা দিল, বল্ল আমার সত্যি মাথা
ব্যাথা, আমার এইসব ফুলের দরকার ছিলনা, আমার একটু চুপচাপ থাকার সময় দরকার ছিল!
রাতুলের কথা শুনে মীরার খুব চিৎকার দিয়ে কাদতে ইচ্ছে করল! মীরা কি ভাবল আর সব উলটো
পালটা হল!
যাইহোক মিরা চুপ করে রাতুলের সাথে হাটছিল......এক্টু পরই ক্লাস আর রাতুল চলে
যাবে! মনে মনে তারপরও আবার আশা বাধল, নাহ রাতুল তো জানে আজ ক্লাস বেশিক্ষন হবেনা,
ও নিশ্চই আজ থাকবে তারপর তারা রিক্সা দিয়ে ঘুরবে!
মীরা ক্লাসে যাবে, সময় হয়ে গেছে!রাতুল কি সত্যি চলে যাবে? রাতুল একবার বল্ল
আমিকি থাকব? মীরার খুব ইচ্ছে হল বলতে হ্যা ঠাক , আমি ক্লাসের পর ঘুরব! কিন্তু মীরা
শুধু এমনি বল্ল তমার মাথা বযাথা বেশি করলে তুমি চলে যাও! রাতুল সত্যি তাই রাজি
হলো! একদম ক্যাম্পসের প্রথম গেইট থেকেই চলে গেল! কিন্তু রাতুলতো সবসময় মীরাকে
ক্লাসে নিয়ে দিয়ে আসে!মীরার মনে হলো নিশ্চই রাতুল মীরাকে সারপ্রাইজ দেয়ার
জন্যজেইভাবে চলে গেল, মীরা ক্লাস থেকে বের হইয়ে দেখবে রাতুল যায়নি! এই ভেবে ক্লাসে
গেল মীরা! সারাটাক্ষন ঘড়ির দেয়ালে চোখ মীরার, মাথায় শুধু ছিল ড়াতুল বাইরে অপেক্ষা
করছে একা! মাথা ব্যাথা নিয়েও অপেক্ষা করছে ওর জন্য!
মীরার খুব অস্থির লাগছিল
ক্লাসে! কখন শেষ হবে এই ক্লাস?? রাতুল যেন বুঝতে না পারে মীরা তার সারপ্রাইজ ধরে
ফেলেছে তাই মীরা রাতুলকে টেক্সট করে বল্ল বাসায় গিয়ে জানিও! রাতুলের কোনো রিপ্লাই
না দেখে মীরা আরও ধরেই নিল রাতুল নিশ্চই বাইরে আছে!ক্লাস শেষ হচ্ছেনা, একসময় মীরার
চোখ বেয়ে পানি পড়ছিল! যাক ক্লাস শেষ করেই মীরা দৌড়ে বের হল, ভাবল দড়জার বাইরেই
রাতুল! কিন্তু অনেক খুজেও রাতুলকে পেলনা মীরা! ভাবল হয়তবা নিচে কোথাও আছে, ফোন দিল
রাতুলকে! ওপাশ থেকে রাতুল বলে উঠল...’এই যে আমি মাত্ত্র বাসায় ঢুকলাম আর তোমাকে
এখুনি জানাতাম! মীরার চোখ বেয়ে শুধু পানি গড়িয়ে পড়ল, মীরা বল্ল আচ্ছা আমি এক্টু পর
ফোন দিচ্ছি। ফোনটা রেখেই মীরার সেই কান্না!হঠাত পেছনে পায়ের শব্দ, মীরা ভাবল
নিশ্চই রাতুল চমকে দিবে সামনে এসে! পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল না ও রাতুল না! তখন মীরার
মনে হল রাতুল সত্যি্বাসা’’’’’।
’’’আরে পাগলী এর নামই ভালবাসা’’’।
Comments
Post a Comment