Posts

আমি এইভাবেই থাকব পাশে সারাজীবন

Image
বাইরে বারান্দায় দাড়িয়েছে রাহাত। অপেক্ষা করছে শিমুর জন্য। শিমু ক্লাশের ভেতর ঠিক জানালার পাশে বসেছে। একটু পর পর রাহাতকে দেখছে। কি সুন্দর কালো রংয়ের মোটা কাপড়ের ফুলহাতা টি শার্ট পড়েছে। ছেলেটাকে তার বড্ড মায়া লাগে। আজ যেন একটু বেশিই লাগছে। সত্যিই তো !! আজ কি হলো শিমুর ?! কালো শ্যাম বর্নের ছেলেটাকে এত ভালবাসতে ইচ্ছে করছে কেন ! রাহাত বাইরে থেকে মুচকি হাসি দিয়ে হাতের ইশারায় বললো - " আমি আছি "! শিমুর কোনভাবেই ক্লাশে মনোযোগ নেই। একটু পর পরই রাহাতের দিকে চায় , আর ভেতরে তার অন্য এক শিমু যেন চিৎকার দিয়ে বলে - এইভাবেই সারাজীবন আমার পাশে থাকবে রাহাত ?! ক্লাশ শেষে শিমু দরজা পেরিয়ে বারান্দায় এসে কাঠখোট্টা মুখ করে রাহাতের দিকে তাকিয়ে বলে - কি দরকার ওমন হিরোগিরি করে ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকার ?! যত্তসব নেকামি ! রাহাত মুচকি হেসে শিমুর কানের কাছে গিয়ে বলে --- " আমি এইভাবেই থাকব পাশে সারাজীবন। তোমাকে ভালবাসি প্রচণ্ড - এরচেয়ে কোনও সত্য আপাতত আর জানিনা

~ বৃষ্টির গান ~

Image
বৃষ্টিস্নাত আজকের এই অবাক সন্ধ্যাবেলায় , স্মৃতির পাতারা মেলছে ডানা আলো ও ছায়ার খেলায়। টুপটাপ এই হঠাৎ বৃষ্টি , তোমাকে পড়ছে মনে। হৃদয়ে বেজেছে হারানো সুর আজ , হৃদয়ের প্রতি কোণে। সুরের মায়ায় আমি বিহ্বল , সাথে বৃষ্টির ঘ্রাণ , অসাড় দু ' চোখে জেগেছে সাড়া ফিরেই কী এলো প্রাণ ! বৃষ্টির ফোঁটা , বৃষ্টির গান আমায় ডেকেছে আজ। আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজি ঘরে ফেলে সব কাজ। স্মৃতির পাতারা ওড়াউড়ি করে শুধুই আমাকে ঘিরে। তোমাকেই শুধু পড়ছে মনে এখন আজ ঘুরেফিরে। হঠাৎ দেখি পাশেই দাঁড়িয়ে হাত রেখে আছো হাতে ! মুষলধারায় বৃষ্টি ঝরছে , কী ' বা যায় আসে তাতে ! ভালোবাসাময় সন্ধ্যাবেলায় স্বর্গের সুখ খুঁজি। তুমি আছো পাশে সেই ভাবনাতে শান্তিতে চোখ বুঁজি। চোখ খুলে দেখি একলা আমি তুমি নেই আশেপাশে ! আবার হারিয়ে ফেলেছি তোমাকে অচেনা কোনো আকাশে ! আজকে আবার বহুদিন পর মায়াময় এই বৃষ্টি , হারানো তোমাকে পাশে এনে দিয়ে ঝাপসা করেছে দৃষ্টি। তুমি নেই বলে একলা আমি দাঁড়িয়ে আকাশ তল...

প্রজাপতির ডানার মতো রঙিন

Image
আমি স্বপ্ন দেখি , প্রজাপতির ডানার মতো রঙিন ! স্বপ্নে আমি ঘুরে বেড়াই আনন্দে , কখনও উড়ে বেড়াই। কখনও আমি পাখি , কখনওবা রঙিন - ডানা প্রজাপতি। একদিন হঠাৎ ঝড় এলো , ধুয়ে গেল প্রজাপতি - ডানার সব রং ! ডানাগুলো হয়ে গেল শীতে ঝরা কুঁকড়ানো ধূসর পাতার মতো ! রঙিন স্বপ্ন আমার , কোথায় হারিয়ে গেল ! তবু আজও ... আমি স্বপ্ন দেখি। ঝরা পাতার মতো ধূসর ও মলিন। স্বপ্নে আমি ঘুরে বেড়াই এখনও , এক নীরব ছায়াসঙ্গী হয়ে , কখনও মৃতপ্রায় , কখনওবা মৃত !

সব সত্য দেখতে হয় না

Image
যখন খুব কষ্ট পেয়ে রাতের আধারে রানু কান্না করে তখন সে নিঃশব্দে আসে ... মাথার কাছে চুপটি করে বসে থাকে ... রানু চোখ বুজে ঘুমের ভান করে পড়ে থাকে ... একদম টের পেতে দেয় না যে সে জেগে আছে ... রানুর বুকটা ধড়ফড় করতে থাকে ... ভীষণ ভয় লাগে ... বুকের ভেতরের আওয়াজ যদি সে টের পেয়ে যায় !! সে টের পায় না ... খুব সাবধানে রানুর মাথার উপর হাত রাখে ... আচ্ছা, তার হাত কি কাঁপছে ?? ... না মনে হয় ... রানু নিজেই কেঁপে উঠতে থাকে একটু একটু ... শীতল হাত দিয়ে সে রানুর চুল এলোমেলো করে দিচ্ছে ... আর রানু কোন এক প্রশান্তির জগতে হারিয়ে যাচ্ছে ...রানুর খুব বলতে ইচ্ছে হচ্ছেঃ "আমার মাথা থেকে হাত সরিও না ... ঘুমানোর আগ পর্যন্ত একটু থাকো !!" রানুর গলা থেকে আওয়াজ বের হচ্ছে না ... আচ্ছা, চোখ বন্ধ থাকলেও কিভাবে অশ্রুর ফোঁটা বেরিয়ে আসে ?? ... রানুর গাল বেয়ে অশ্রুর ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে ... ও মনেপ্রাণে প্রার্থনা করছেঃ "সে যেন টের না পায় ... সে যেন আমার কান্নার খোঁজ না পায় !!" রানুর প্রার্থনা মঞ্জুর হয় ... সে আঁধারে রানুর অশ্রু দেখতে পায় না ... আস্তে আস্তে তার মাথায় হাত বুলাতে থাকে ... রানুর ভীষণ চোখ খুলত...

হিমিকা এখনও হিমালয়ের অপেক্ষায়

Image
হিমালয় জানিনা কেমন আছ। আজ অনেকদিন পর খুব করে তোমাকে মনে পড়ছে। জানিনা কেন। তাই ভাবলাম একটা চিঠি লিখে ফেলি তোমার কাছে। তোমাকে বলেছিলাম একদিন, হিমালয় থেকে হিমু হবে? একদিন কটকটে হলুদ একটা পাঞ্জাবি পরে হাঁটবে আমার পাশে? আমিও নাহয় নীল শাড়িতে রুপা হব সেদিন। হিমুরা কারও হাত ধরেনা। তুমি কিন্তু আমার হাত ধরে থাকবে। যাবে একদিন? তুমি বলেছিলে, ঐসব বাউন্ডুলে মার্কা চিন্তা ভাবনা তোমার পছন্দ না। তুমি নাকি খুবই বাস্তববাদী। আমার মাথা থেকে ঐসব হিমুর ভূত ছাড়াতে বলেছিলে তুমি। ভূত আমি ছাড়িয়েছিলাম। আর কখনও ধরিনি ওরকম কোন বায়না। তোমাকে একদিন বলেছিলাম, কাগজে কলমে একটা চিঠি লিখতে। আক্ষরিক অর্থে প্রেমপত্র। ভালোবাসার কিছু কথা কাগজে বন্দি করে। তুমি বলেছিলে, চিঠি ফিঠি লেখার সময় নেই তোমার। আমাকে ওসব ফালতু আবেগ ঝেড়ে ফেলতে বলেছিলে তুমি। ওহ, ঐদিন অবশ্য বাংলিশ একটা মেইল পেয়েছিলাম তোমার। ফালতু আবেগগুলোকেও মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলাম একে একে। একদিন বলেছিলাম, চলনা ভিজি বৃষ্টিতে। ঐ যে ক্যাম্পাসের সারি সারি কদম গাছে ফুটে থাকা স্নিগ্ধ ফুলগুলো হাতছানি দিয়ে ডাকছিল আমাদের। ঐদিন। তুমি বললে, বাদ দিতে ...

শিউলি ফুল খেতে ইচ্ছে করে

Image
তখন আমি পঞ্চম শ্রেণীতে। আগের বাসার সামনের বাড়িটার পেছন দিকে একটা বিশাল শিউলি গাছ ছিল। বাড়িটাকে সবাই ডাকতো কিপ্টের বাড়ি। বাড়ির মালিক ছিল হার কিপ্টে নাকি! বাইরের রাস্তা থেকে শুরু করে বাড়ির ভেতরে যেন শিউলির বিছানা! আহাহাহা! এখনো সেই চোখ ধা-ধা-নো দৃশ্য চোখে ভেসে উঠে! ফযরের আযানের পর পরই বুড়ো নামাযে গেলেই একটা ফুল ঝাড়ু, আর মস্ত একটা থালা নিয়ে শুরু করে দিতাম শিউলি তোলা। শিউলির ঘ্রানে বুড়োর ভয়টা ভুলে যেতাম। কিন্তু হায়.....!! কথায় আছে চোরের দশদিন তো গৃহস্থের এক। একদিন ধরা পড়ে গেলা ম। সেই কি দৌড়ানি টা দিলরে বাবা! ভয়ে শেষ, যেন বাসায় না বিচার দেয়। যেই কথা সেই কাজ, দুপুরে স্কুল থেকে বাসায় ঢুকতেই আম্মু বল্ল - " কিপ্টের বাড়ি থেকে নালিশ এসেছে, ওদের শিউলি তোলা যাবে না"। আম্মুকে বল্লাম, " বুড়োকি কবরে যাবে নাকি গাছ নিয়ে! রাতে আমার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে শিউলি গাছটায় দেখতাম,অন্ধকারে সাদা সাদা ফুল গুলো গুটিশুটি দিয়ে উঁকি দিচ্ছে! কি মিষ্টি ঘ্রান।যাইহোক, আমি কি আর থামি,ভোরে চলে যাই আবার সেই ফুল ঝাড়ু আর থালাটা নিয়ে। কে পায় বিচারের ভয়! পরিশিষ্টঃ বুড়োর বুড়ির জন্য কিন্তু অনেকবার মালা পাঠ...

অপেক্ষায় রই

Image
ঝুম বৃষ্টিতে একদিন ভিজবো খুব। দূর থেকে ভেসে আসা বেলির ঘ্রাণে কালবৈশাখি ঝড়ের টানে ঘরছাড়া মেঘেরা যাবে যেখানে যাবো সেখানেই , তোমার হাত ধরে। মেঘগুলো ডাকছে , তুমি কই ? আজই কী তবে সেই দিন ! অপেক্ষায় রই।